রেহনুমা বিনত আনিস এর ব্লগ

পরিণতি - পর্ব ৫

লিখেছেন রেহনুমা বিনত আনিস ১১ জানুয়ারি, ২০১৫, ১০:৩৭:০৭ সকাল

ঢাকায় ফিরে আগের মতই সংসার চলতে থাকে ওদের। গ্রামে যাবার ঘটনা নিয়ে কেউ কথা তোলেনা। শান্তা থাকে ওর নিজের জগত নিয়ে, আর শোভন পড়ে থাকে ওর মোবাইল নিয়ে। একদিন শান্তার মাথায় আসে, শোভনের তো কোন বন্ধু নেই, আত্মীয়স্বজন ওকে ঘৃণা করে, তাহলে সে সারাদিন মোবাইলে কি করে? একদিন কৌতুহলী হয়ে শোভন বাথরুমে থাকার সুযোগে কল হিস্ট্রি চেক করে শান্তা। শুধু একটা কল দেখাচ্ছে, আর পুরোটা ফাঁকা। অথচ শোভন সকাল...

বাকিটুকু পড়ুন | |

পরিণতি - পর্ব ৪

লিখেছেন রেহনুমা বিনত আনিস ১০ জানুয়ারি, ২০১৫, ০৫:৫৫:৪২ সকাল

পরদিন একটা অপরিচিত খাটে নিজেকে আবিষ্কার করে শান্তা। মুক্তাবুবুর বড় মেয়েটা নিজের বাচ্চা আর মায়াকে মাদুর পেতে একসাথে রোদে বসিয়ে খাওয়াচ্ছে। এই অনিন্দ্য সুন্দর ভালোবাসার দৃশ্যটা দেখে শান্তার মনে হয় যেন গতরাতে যা ঘটেছে তা ছিলো এক দুঃস্বপ্ন। কিন্তু প্রত্যক্ষ সবকিছু সাক্ষ্য দেয়, ওর দুঃসহ স্মৃতিটা আসলেই বাস্তবতা।
সে মাথা তুলে মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করে, ‘তোমার নাম কি?’
‘নাবিলা’।
‘তুমি...

বাকিটুকু পড়ুন | |

পরিণতি - পর্ব ৩

লিখেছেন রেহনুমা বিনত আনিস ০৯ জানুয়ারি, ২০১৫, ০৯:৫৭:০২ সকাল

শোভন বাথরুম থেকে বেরোলে শান্তা ওকে খবরটা দেয়। শোভন কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় না। ওর প্রশ্নেরও কোন জবাব দেয়না। কিন্তু শান্তা মনে শান্তি পায়না। ফোন যেই করে থাকুক, মা অসুস্থ এটাই এখন প্রায়োরিটি। পরদিন সে অফিস থেকে ফেরার পথে দু’টো টিকেট করে এনে শোভনকে বলে, ‘অফিস থেকে ছুটি নিয়ে এসেছি। কাল আমরা মাকে নিয়ে আসতে যাচ্ছি’।
প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে যায় শোভন। ওর এত রেগে যাবার কারণ বুঝতে পারেনা...

বাকিটুকু পড়ুন | |

পরিণতি - পর্ব ২

লিখেছেন রেহনুমা বিনত আনিস ০৮ জানুয়ারি, ২০১৫, ০৭:৩৩:২৯ সকাল

আনন্দে উচ্ছ্বাসে দিন কাটে শান্তার। শোভন কোনদিন ফোন করে বলে, ‘আজ মাকে তোমার কথা একটু করে বললাম’; কোনদিন বলে, ‘আজ মা তোমার নাম জিজ্ঞেস করলেন’; আরেকদিন বলে, ‘মা তোমার ছবি দেখতে চেয়েছেন’।
একদিন ছুটির দিনে বিকেলে শুয়েবসে মনের ক্যানভাসে কল্পনার রংতুলিতে নানান ছবি আঁকছিলো শান্তা। কোন বেরসিক ফোন করল এ’সময়? অপরিচিত নাম্বার। অলসভাবে ‘হ্যালো’ বলে শান্তা। ওপাশ থেকে ভেসে আসে, ‘হ্যালো,...

বাকিটুকু পড়ুন | |

পরিণতি - পর্ব ১, ২, ৩--

লিখেছেন রেহনুমা বিনত আনিস ০৭ জানুয়ারি, ২০১৫, ১১:২৮:০৬ সকাল

শোভনের রিংটোন শুনে কান খাড়া হয়ে যায় শান্তার। মোবাইলের স্ক্রিনে শোভনের হাসিমাখা চেহারাটা দেখে মূহূর্তেই উবে যায় সমস্ত রাগ, অভিমান। মোবাইলটা ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে একটু ঝাঁঝ আর অনেক ভালোবাসা মিশিয়ে বলে, ‘কি? তুমি না বলেছিলে আজ ফোন করতে পারবেনা? তোমার এমন কাজ, তেমন ব্যাস্ততা! কই? পারলে আমাকে ছাড়া থাকতে?’
ওপাশে কেবল নীরবতা।
বিরক্ত হয় শান্তা, ‘কি ব্যাপার শোভন? সারাদিন পরে...

বাকিটুকু পড়ুন | |

সেই ভালোবাসার নদীটি

লিখেছেন রেহনুমা বিনত আনিস ০১ জানুয়ারি, ২০১৫, ০৯:৩৭:২০ সকাল

আমার প্রভু যেন এক মহাসাগর! যা কিছু স্বচ্ছ, সুন্দর ও কল্যাণকর সবকিছুর আধার তিনি। পরম করুণাময় তাঁর সৃষ্টিকুলের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম আনুকুল্যের নিদর্শনস্বরূপ সেই মহাসাগর থেকে একটি নদী প্রবাহিত করে দিয়েছেন, যার বর্ণনায় তিনি স্বয়ং বলেছেনঃ
তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তাঁর পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল,...

বাকিটুকু পড়ুন | |

ভুল করে ভুলে যাওয়া

লিখেছেন রেহনুমা বিনত আনিস ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৪, ০৬:৩৯:৪৮ সকাল

আমার বিয়ে পিছানো হয়েছিল তিনবার। যতবার বিয়ে পিছানো হয়ে ততবার মাস্টার্স পরীক্ষা পিছানো হয় এবং উভয় গিয়ে পড়ে একই তারিখে। শেষবার বাবা বলল, ‘আমি বিদেশ থেকে কতবার ছুটি নিয়ে আসব? একই দিনে যদি পরীক্ষা হয় তাহলে পরীক্ষা দিয়ে এসে বিয়ের অনুষ্ঠানে আসবে, আর যদি পরীক্ষা দুই একদিন আগেপরে হয় তাহলে তো সমস্যাই নেই’।
একদিকে পরীক্ষা দিচ্ছি, আরেকদিকে বাসায় লোকজন গমগম করছে। আমার এক বান্ধবী ওর বিয়ের...

বাকিটুকু পড়ুন | |

ভাই বোন

লিখেছেন রেহনুমা বিনত আনিস ২২ ডিসেম্বর, ২০১৪, ০৯:০৬:৫৪ সকাল


ক’দিন আগে রাদিয়ার এক বান্ধবীর বাসায় আমাদের কয়েক বান্ধবীর সপরিবারে দাওয়াত ছিলো। আমাদের বান্ধবীদের মেলা মানেই রাদিয়ার বান্ধবীদের মেলা, যেহেতু আমাদের কন্যা সন্তানের সংখ্যা বেশী এবং মেয়েদের বয়স কাছাকাছি। হাফিজ সাহেবের কাজে যেতে হবে, আমার শরীর খারাপ লাগছিলো, কিন্তু আবার রাদিয়ার আনন্দটাও নষ্ট করতে ইচ্ছা করছিলোনা, তাই আমরা রিহামকে নিয়ে চলে এলাম। রাদিয়াকে এক বান্ধবী...

বাকিটুকু পড়ুন | |

শার্লক হোমস হইতে চাই

লিখেছেন রেহনুমা বিনত আনিস ২৯ নভেম্বর, ২০১৪, ১১:২১:১৫ রাত


ডঃ ওয়াটসন শার্লক হোমসের সাথে প্রথম পরিচয়ে আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন যে এত তুখোড় মেধাবী লোকটা জানেনা পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘোরে! তথ্যটা জানাতেই শার্লক হোমস বলে ওঠেন তাঁর কাজের সাথে এই তথ্যের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই, সুতরাং এটি তাঁর জানার কোন প্রয়োজন নেই; যেহেতু তথ্যটা যেভাবেই হোক তিনি জেনে গিয়েছেন, তিনি চেষ্টা করবেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটি ভুলে যেতে। লাইনগুলো পড়ে সেই অল্প বয়সে...

বাকিটুকু পড়ুন | |

অ্যানালগ বনাম ডিজিটাল

লিখেছেন রেহনুমা বিনত আনিস ২৪ নভেম্বর, ২০১৪, ০৯:০৬:১৬ সকাল


১/
দরজার বাইরে ছোট ছোট পায়ের ধুপধাপ শব্দ শুনে দরজাটা খুলতেই আমার দেড় বছর বয়সী ছোটভাই মোহাম্মাদ তীরবেগে কোলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে চার হাত পা দিয়ে এমনভাবে জাপ্টে ধরল যে আমার আর ধরার প্রয়োজন নেই, ক্রেন দিয়ে টেনেও ওকে আমার কাছ থেকে আলাদা করা যাবেনা। হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘আপানা, আপানা, বাঁচাআআও! আমি নাআআ বা’নার কুম্পতানানে এত্তা তুউউউত দিসি’ (আপু! বাঁচাও! আমি না বাবার কম্পিউটারে একটা...

বাকিটুকু পড়ুন | |

- আগুন -

লিখেছেন রেহনুমা বিনত আনিস ১১ নভেম্বর, ২০১৪, ১১:০৪:০৫ সকাল


মানুষের মন এক অদ্ভুত চিজ। চোখের সামনে এমন অভাবনীয় দৃশ্য ঘটমান, আর আমার মন কি’না আমাকে নিয়ে চলে গেল বেড়াতে, তিন বছর আগে, যখন প্রথম এই ছেলেটিকে দেখেছিলাম।
সেদিন ছিলো আমাদের ছাত্রজীবনের সমাপ্তি দিবস। রায়হান বলল, ‘চল, আজ সেলেব্রেট করি। কি করা যায়? কি করা যায়? পেয়েছি! চল, তোকে কাবাব খাওয়াব, পোড়া মাংসের গন্ধে খাবার এসে পৌঁছবার আগেই তোর ঠোঁটের কোণ বেয়ে লোল পড়বে, দেখে দেখে...

বাকিটুকু পড়ুন | |

ছোট ছোট বালুকণা - ৫

লিখেছেন রেহনুমা বিনত আনিস ২৬ অক্টোবর, ২০১৪, ০৮:৩৫:২১ সকাল

সামিয়া সিদ্ধান্ত নেয় এবার সাহস করে মাসরুরের সাথে কথা বলতেই হবে, আর এভাবে চলতে পারেনা। তবে বান্ধবী পরামর্শ দিয়েছে সুস্থিরভাবে কথা বলতে হবে, কারণ ঝগড়ার মুডে চলে গেলে দু’জনই কথা বলতে থাকে, কিন্তু কেউ কারো কথা শোনেনা। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে পাঁচ মিনিট ভেবে নেয় সামিয়া কিভাবে কথা শুরু করা যায়, তারপর দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে। মাসরুর মাথা তুলেও তাকায়না। ঢোঁক গিলে সামিয়া। তারপর গলাটাকে...

বাকিটুকু পড়ুন | |

ছোট ছোট বালুকণা - ৪

লিখেছেন রেহনুমা বিনত আনিস ২৫ অক্টোবর, ২০১৪, ০৮:০৭:৪৩ সকাল

মারযান চলে গেলে তিনি সামিয়াকে বললেন, ‘শোন মা, তুমি আমার কাছে আমার তিনটা সন্তানের চেয়ে আলাদা নও। তুমি আসার আগেও ত্রিশ বছর আমার সংসারের সব কাজকর্ম চলেছে, আরো কিছুদিন এভাবে চললে কোন ক্ষতি নেই। এখন তোমার প্রয়োজন ঘরের সবার সাথে বন্ধুত্ব করার, সবার পছন্দ অপছন্দ বুঝে নেয়ার, আমাদের তোমার পছন্দ অপছন্দ বুঝার সুযোগ দেয়ার, বিশেষ করে মাসরুরের সাথে অ্যাডজাস্ট করার’।
নিজের অজান্তেই একটা...

বাকিটুকু পড়ুন | |

ছোট ছোট বালুকণা - ৩

লিখেছেন রেহনুমা বিনত আনিস ২৪ অক্টোবর, ২০১৪, ০৫:৩৯:০২ সকাল

রান্নাঘরে গিয়ে তো সামিয়া পুরাই হতভম্ব! এই ভোর সকালেই পুরো রান্নাঘর লোকে গমগম করছে। রান্নাঘরের দু’টো দরজা- একটা খাবার ঘরের সাথে, আরেকটা বাড়ীর পেছনে উঠোনে। উঠোনে বটি নিয়ে বসে একজন মুরগী কাটছে, একজন মাছ, একজন নানান জাতের সব্জী। দরজায় বসে একজন মসলা বাটছে। রান্নাঘরের ভেতর একজন রুটি বেলছে, একজন চিরল চিরল করে আলু কাটছে, দেখেই বুঝা যাচ্ছে ভাজি করা হবে। মধ্যখানে চুলোর পাশে বসে ওর শাশুড়ি...

বাকিটুকু পড়ুন | |

ছোট ছোট বালুকণা - ২

লিখেছেন রেহনুমা বিনত আনিস ২৩ অক্টোবর, ২০১৪, ০৬:৩১:৩৬ সকাল

সামিয়ার বিয়ে হয়ে গেল মাসরুরের সাথে। বিয়ের অনুষ্ঠানে মাসরুরকে দেখে মনে হচ্ছিল সে আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে, কিন্তু সামিয়াকে দেখে মনে হচ্ছিল ওর আকাশের চাঁদটা কোথাও খোয়া গিয়েছে। ব্যাপারটা সবাই নববধূর স্বাভাবিক লজ্জাবোধ মনে করলেও মাসরুরের দৃষ্টি এড়ায়নি। রাতে শ্বশুরবাড়ীতে নিজের রুমে বসে ননদ মারযানের সাথে কথা বলছিল সামিয়া। মারযানের নতুন ভাবীর সম্পর্কে জানার আগ্রহের শেষ নেই।...

বাকিটুকু পড়ুন | |