ইমতিহান -রুকাইয়া ইসলাম

লিখেছেন লিখেছেন মুহাম্মদ আমিনুল হক ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ০৩:০৯:০৭ দুপুর

একদিন এক মালিক তার অধীনস্থদের ডেকে বলল, আজ তোমাদের একটা সুযোগ দেব। আর সেটা সীমিত সময়ের জন্য। কিন্তু তোমরা চাইলে সীমাহীন অর্জন সেখান থেকে করতে পারবে। সারা জীবন তোমাদের আর কোন কাজ করা লাগবে না। বাকী জীবন আরাম আয়েশ করেই কাটিয়ে দিতে পারবে।

তোমাদের যে কাজটি করতে হবে তা হল,

আমার এই বিলাশ বহুল প্রাচীরে সবাইকে এক ঘন্টার জন্য প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে। প্রচুর ধন-সম্পদ লুকােনা আছে এই বাড়িতে। তোমরা চাইলেই তোমাদের ব্যাগগুলো ভর্তি করে নিতে পারবে। এই বাড়িতে প্রবেশের সময় একটি নির্দেশিকা পাবে। এই বাড়ির কোথায় কোন সম্পত্তি লুকানো আছে এবং কিভাবে তা উদ্ধার করতে হবে তার যাবতীয় বর্ণনা দেয়া আছে ঐ নির্দেশিকায়। তোমরা যদি ঐ নির্দেশিকা ভালভাবে পড়ে নাও তাহলে তোমাদের আর কোনো সমস্যা হবে না।

আর যদি তোমরা ঐটাকে না পড়ো তাহলে তেমন কিছুই খুঁজে পাবে না। কথামত, সবার জন্য গেট খুলে দেয়া হল। সবাই তো মহা খুশিতে গেট দিয়ে প্রবেশ করা আরম্ভ করল। ভেতরটা এতই আকর্ষণীয় ও জাঁকজমকপূর্ণ ছিল যে, অনেক লোক তাদের আসল উদ্দেশ্যটাই ভুলে গেল এবং নির্দেশিকার কথা ভুলে সামনে আগাতে থাকল। আবার অনেকে ভাবল, হাতে তো অনেক সময় আছে নির্দেশিকা পরে পড়ব আগে সামনে যাই। আর কিছু লোক ছিল, তারা গেট দিয়ে ঢুকেই তাদের নির্দেশিকা হাতে নিয়ে একটু সময় করে তা পড়ে নিল এবং তারপরে ভেতরে গেল এভাবে তারা তিনটা ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল । প্রথম দল যারা তাদের উদ্দেশ্যই ভুলে গিয়েছিল তারা তো মহা খুশিতে হাসি, তামাশা ও নৃত্য করায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তারা ভাবল, এত সুন্দর স্থান থেকে তারা আর কোন দিন বের হবে না। এভাবে তারা তাদের সময় নষ্ট করতে থাকল। আর যারা ভেবেছিল হাতে তো অনেক সময় আছে, আগে একটু সৌন্দর্য্য উপভোগ করে নেই। তারা সামনে গেল সৌন্দর্য্য দেখল কিন্তু তেমন কোন ধন-সম্পদ অর্জন করতে পারল না। শুধু অল্প কিছু ছড়ানো ছিটানো যা পেল তা-ই তারা ব্যাগে ভরে নিল। কিন্তু তার মূল্য অনেক কম ছিল। তবে তারা যে আবার পিছনে এসে নির্দেশিকা পড়ে নতুন করে আবার ধন কুড়াবে সে সময়ও ছিল না। এভাবেই কেটে গেল তাদের সময় ও সুযোগ। আর তৃতীয় দল, যারা আগেই নির্দেশিকা পড়ে নিয়েছিল, প্রচুর ধন-সম্পদ কুড়ানো তাদের জন্য অতি সহজ হল। তারা ঐ সময়টাকে মাথায় রেখে তাদের ধন সম্পদ অর্জন করতে থাকল। তারা জানে যে, এ বাড়ি তো আমাদের নয়, অতএব এর সৌন্দর্য দেখে আমাদের কোনো লাভ নেই । এই ভেবেই তারা তাদের ব্যাগগুলো পুরোপুরি ভরে নিল। অপর পক্ষে প্রথম শ্রেণীর লোকরা যখন তাদেরকে দেখল ব্যাগ ভর্তি করে নিচ্ছে তখন তারা পরস্পরে হাসা-হাসি করা আরম্ভ করল। তারা বলল, দেখো ঐ লোকগুলো কত বোকা! তারা কত কষ্ট করে ব্যাগ ভর্তি করতেছে আর আমরা কত স্বাধীন!! এটা শুনে ঐ ব্যাগ ভর্তি করা লোকগুলো বলল, ভাই তোমরা ভুল করতেছ, সময় থাকতেই কিছু অর্জন কর নতুবা পরে অনেক বিপদে পরবে । এ কথা শুনে তারা বলল, আমরা ভুল করলে করেছি তাতে তোমাদের কি? তোমরা তোমাদের কাজ কর, নচেৎ আমাদের সামনে থেকে চলে যাও ।

এই বলে তারা আবার হাসি তামাশায় মগ্ন হয়ে পড়ল। এরই মধ্যে এক ঘন্টা পার হয়ে গেল । বিকট এক আওয়াজ করে বলা হল, সময় শেষ, তোমরা সবাই বের হও । তখন ব্যাগ ভর্তি লোকগুলো হাসতে হাসতে বের হয়ে গেল। আর যারা অল্প কিছু কুড়িয়েছিল তারা বলল, আমাদের আরো কিছু সময় দেয়া হোক। আমরা আমাদের ব্যাগগুলো ভরে নিয়ে আসি। আর যারা কিছুই অর্জন করতে পারেনি তারা দেয়ালে মাথা টাকাতে টাকাতে বের হল। তাদের করার কিছুই থাকল না।

বিষয়: বিবিধ

২৬২ বার পঠিত, ১ টি মন্তব্য


 

পাঠকের মন্তব্য:

381903
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ দুপুর ১২:০৪
কাহাফ লিখেছেন : দুনিয়াতে কাটানো মুহুর্ত চমৎকার উপমায় তুলে ধরা হল!
ধন্যবাদ ও জাযাকাল্লাহ!

মন্তব্য করতে লগইন করুন




Upload Image

Upload File